মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম:
যশোরের চৌগাছায় আদালতের রায় তোয়াক্কা না করে এক সাংবাদিকের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে চৌগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক সালমান বিশ্বাস।
গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ চৌগাছা থানায় জিডিটি করা হয়। ভুক্তভোগী সালমান বিশ্বাস ‘দৈনিক বিজয় বাংলাদেশ’ পত্রিকার সাংবাদিক এবং উপজেলার ১নং ফুলসারা ইউনিয়নের সলূয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে।
জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক সালমান বিশ্বাস তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পৈত্রিক জমি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমিন দ্বারা পরিমাপ করতে যান। এসময় একই গ্রামের মৃত মঙ্গল হোসেনের তিন ছেলে যথাক্রমে মো. জামির হোসেন (৫০), মো. নুর হোসেন (৩৮), মো. রফি হোসেন (৫৫) এবং মো. আনিচুর রহমানের ছেলে মো. আদর আলী (২৫) দলবদ্ধ হয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিরোধপূর্ণ জমিটি নিয়ে আদালতে দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলমান ছিল। মামলার রায়ে আদালত সালমান বিশ্বাসের পরিবারের মালিকানা নিশ্চিত করে রায় প্রদান করেন। অভিযুক্তরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো উচ্চতর আদালতে আপিল না করায় আইনগতভাবে সালমান বিশ্বাসই জমির প্রকৃত স্বত্বাধিকারী। তবে দখলদার চক্রটি আদালতের সেই রায় মানতে নারাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রাম পর্যায়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক ডাকা হলেও হামলাকারীরা কোনো যুক্তি বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি। বরং “জমি আমাদের না হলেও তারা এই জমিতে আসতে পারবে না”, এমন অযৌক্তিক অজুহাতে গায়ের জোরে জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সালমান বিশ্বাস বলেন,
”আদালতের রায় আমার পক্ষে থাকা সত্ত্বেও বিবাদীরা পেশিশক্তি দেখিয়ে আমাকে আমার জমিতে যেতে দিচ্ছে না। আমিন দিয়ে মাপার সময় তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে নিজের অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছি।”
চৌগাছা থানা পুলিশ জানান, জিডিটি আমলে নিয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে। এদিকে, একজন সংবাদকর্মীর ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

