ঢাকাWednesday , 17 December 2025
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কিশোরগঞ্জ এলজিইডিতে প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও ভাইরালের পরও অদৃশ্য প্রশাসন

জাকিয়া বেগম
December 17, 2025 4:17 pm
Link Copied!

কিশোরগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসে প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে ল্যাবরেটরি শাখার কথিত এমএলএসএস আজিজুল হক ফকিরকে সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে প্রকাশ্যেই অর্থ গ্রহণ করতে দেখা গেলেও প্রশাসনের নীরবতা রহস্যজনক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, বিভিন্ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি নির্দ্বিধায় টাকা নিচ্ছেন। অথচ রাষ্ট্রীয় বিধি অনুযায়ী এলজিইডিতে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই—সব অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি চালানে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে এই ঘুষ বাণিজ্য কীভাবে দিনের পর দিন চলতে পারছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় ঠিকাদার ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ল্যাবরেটরি সংশ্লিষ্ট টেস্ট রিপোর্ট, ফাইল ছাড়সহ প্রায় প্রতিটি সেবার জন্যই নির্ধারিত ‘ঘুষ রেট’ রয়েছে। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়, রিপোর্ট পেতে বিলম্ব করা হয়। এভাবেই জিম্মি করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

এলজিইডি অফিস সূত্র জানায়, আজিজুল হক ফকিরকে PEDP-4 প্রকল্পের আওতায় এমএলএসএস পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অথচ বর্তমানে প্রকল্পটির কোনো কার্যক্রম না থাকলেও তিনি ল্যাব টেকনিশিয়ান মোখলেছুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ল্যাবরেটরিতে বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠেছে-কোন ক্ষমতাবলে একটি মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পের কর্মচারী নিয়মিত সরকারি ল্যাবে দায়িত্ব পালন করছেন?

আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো, সরকারি বিধি অনুযায়ী বৈধ নিয়োগপত্র ও চাকরির কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও নির্বাহী প্রকৌশলীর রহস্যজনক নীরবতায় তিনি বছরের পর বছর ধরে অফিসে অবস্থান করছেন। এতে স্পষ্টভাবে একটি শক্তিশালী স্বার্থান্বেষী চক্রের অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিলছে, যারা ঘুষ বাণিজ্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ভাইরাল ভিডিও, একাধিক অভিযোগ ও জনমনে তীব্র ক্ষোভের পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা মুখ খুলছেন না। প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি এলজিইডি অফিসেই ঘুষ বাণিজ্য এখন ‘ওপেন সিক্রেট’? নাকি অভিযুক্তরা প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে? অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পেছনের গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে এলজিইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা চরমভাবে ভেঙে পড়বে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন সত্যের পক্ষে দাঁড়াবে, নাকি নীরবতা দিয়েই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আজিজুল হক ফকিরের কাছে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করে জানান, “এগুলো টেস্ট রিপোর্ট আর স্কুলের টাকা।” তবে কোন খাতে, কোন নিয়মে এবং কার অনুমোদনে এই অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে এই বিষয়ে তথ্য অপারগতা প্রকাশ করে।

এ-সংক্রান্তে কিশোরগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত কবীরের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও উনি সাড়া দেন নি।