ঢাকাSaturday , 6 December 2025
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. রাজধানী
  12. রাজনীতি
  13. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাকশী রেলওয়ে পুলিশের অবহেলার কারণে নিহতের ঘটনায় লঘুদণ্ড দেওয়ার অভিযোগ

admin
December 6, 2025 9:42 pm
Link Copied!

মোঃ আনোয়ার হোসেন: পাকশী রেলওয়ের ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার পুলিশের ড্রাইভারের অপেশাদারিত্ব ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় জামেলা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্তদের লঘুদণ্ড দেওয়ায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে নিহতের পরিবার। অনুসন্ধানে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরও তৎকালীন পাকশীর রেলওয়ে জেলার সাবেক পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন স্বপ্রণোদিত হয়ে সড়ক পরিবহন আইনের ১০৫ ধারা অনুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযুক্তদের লঘুদণ্ড প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।​

গত ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পাবনা সদর থানার নাজিরপুর এলাকার কিষান ইন্ড্রাষ্ট্রিজ ফ্যাক্টরির সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার এসআই এসএম শফিক আল রাজী আসামিকে আদালতে সোপর্দ করতে ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৪-২৯৯০ নং ডাবল কেবিন পিকআপ গাড়ি যোগে সহকর্মীদের নিয়ে যাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, পুলিশের গাড়িটি রাস্তার লেন পরিবর্তন করে অন্য লেনে গিয়ে একটি মোটর চালিত অটো ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী সদর উপজেলার পূর্ব আফুরিয়া এলাকার মোঃ মিনাজ প্রামাণিকের স্ত্রী জামেলা বেগম (৭০) ও চালক নাজিরপুর রাখালগাছি এলাকার মোঃ মামুন (২৮) গুরুতর আহত হন। ​পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য গাড়িতে থাকা সত্ত্বেও আহতদের তাৎক্ষণিক হাসপাতালে না নিয়ে প্রায় ১০ সেকেন্ড ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই যাত্রী জামেলা বেগম মারা যান। অটোচালক মামুন হাত-পা ভাঙাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মকভাবে জখম হন। এই দুর্ঘটনায় সরকারি গাড়ির আনুমানিক ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছিল। ​ঘটনার পরপরই এবিষয়ে পাবনা সদর থানায় ৮২২নং সাধারণ ডায়েরি রুজু করেন হেমায়েতপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এসআই সোলেমান। এ ঘটনা অনুসন্ধানে ঈশ্বরদী রেলওয়ে সার্কেলের সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার মো. মজনুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় পর্যাপ্ত পরিমানে সূর্যের আলো ছিল এবং সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। চালক আরো সতর্ক হয়ে গাড়ী চালালে এই দূর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হত। ড্রাইভার হিসেবে পেশাদারিত্বের ও গাড়ী চালানোর সময় সতর্কতার অভাব ছিল। এই গাড়ীতে ইনচার্জ হিসেবে ড্রাইভারের পাশে ২য় সিটে বসে থাকা দায়িত্বরত এসআই শফিক আল রাজী ড্রাইভারকে সতর্কতার সাথে গাড়ী চালানোর জন্য নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন; যাহা উক্ত এসআই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেনি মর্মে অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়। তাদের দায়িত্বহীনতার কারণেই এই দূর্ঘটনা সংগঠিত হয়ে প্রাণহানী ও সরকারী সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হয়েছে। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলেও, তৎকালীন পাকশীর রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিনের কার্যালয় থেকে ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসে। ​২০২১ সালের ২১ নভেম্বর ১১৬৭ নং জেলা আদেশ মূলে অভিযুক্তদের লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়। পিআরবি ২১৩ বিধি মোতাবেক স্বপ্রণোদিত হয়ে সড়ক পরিবহন আইনের ১০৫ ধারা অনুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।ঘটনাস্থলটি পাবনা জেলা পুলিশের অধিক্ষেত্র হওয়া স্বত্বেও নিহতকে ময়নাতদন্তসহ যাবতীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে করেনি তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম ।

এবিষয়ে জানতে পাকশী রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপারের কাছে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করলেও তথ্য প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করেন। মুঠোফোনে উনার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোন সাড়া দেন নি।