নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুর মহানগরীতে বিবাহবিচ্ছেদের পর এক দম্পতিকে সদর থানা রোডে মারপিটসহ গুরুতর জখমের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে এঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হলেন- মহানগরীর সদর থানার মুন্সিপাড়া এলাকার মোঃ সাবিরুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ রাণী (৩৯)। অপরদিকে অভিযূক্ত ব্যক্তি হলেন-দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকার মৃত ফজলু আকন্দের ছেলে মান্নান আকন্দ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযূক্ত ব্যক্তি মান্নান ইতিপূর্বে ভুক্তভোগী নারীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকাকালে তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর তালাকের মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মোঃ সাবিরুল ইসলামের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। একারণে বিবাদী ক্ষীপ্ত হয়ে খুনজখমের হুমকি দেওয়ায় বিবাদীর বিরুদ্ধে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরী করলেও ভুক্তভোগী ও তার বর্তমান স্বামী সাবিরুল ইসলাম থানা রোডের জয়দেবপুর বাজারস্থ মা মেডিকেল হল (ফার্মেসী) থেকে ঔষধ কিনে বাসায় ফেরার পথে এলোপাথারীভাবে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। একপর্যায়ে বিবাদী মান্নান তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর স্বামীর মাথায় আঘাত করলে উক্ত আঘাত তার বাম হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে উনার বাম হাতের তালু সহ মধ্যামাঙ্গুলে লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। এসময় পথচারী লোকজন আগাইয়া আসলে বিবাদীরা খুন জখম করিবে মর্মে হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে লোকজনের সহায়তায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী নারী রাণী আক্তার জানান, উনি এঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বর্তমানে তিনি ও তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। কিছু অসাধু দলীয় নেতাকর্মীরা আইনগত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এবিষয়ে অভিযূক্ত ব্যক্তি মান্নান আকন্দের কাছে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে উনি ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে আঘাত করার বিষয়টি অস্বীকার করে উনি জানান, উনাকে সদর থানার ওসি ও ভুক্তভোগী নারী চা খাওয়ার কথা বলে ফোন করেছিল। পরে উনি থানা রোডে আসলে উনাকে মারধর করেছে। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে রিকশার সাথে লেগে ভুক্তভোগীর স্বামী আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
এসংক্রান্তে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মেহেদী হাসান জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

